Skip to main content

Posts

ক্রিস্টোফার কলম্বাস - সাহসী নাবিক নাকি বেপরোয়া অ্যাডভেঞ্চারার ও বর্বর শাসক?

ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে শুধু একজন সাহসী অ্যাডভেঞ্চারার ও সফল নাবিক হিসেবে দেখার আর উপায় নেই।  এই খ্যাতিমান নাবিকের লম্বা সাফল্যের লিস্টের তলায় চাপা পরে আছে নিরীহ ও সরল আদিবাসীদের আর্তনাদ, বলছেন কোন কোন ইতিহাসবিদ। সেই আর্তনাদের তোড়ে প্রশ্ন উঠেছে তাকে করা অতীতের মূল্যায়ন নিয়ে। তিনি কি একজন সাহসী অনুসন্ধানকারী নাবিক ছিলেন নাকি আসলে ছিলেন লোভী আক্রমণকারী? নাকি একজন বেপরোয়া অ্যাডভেঞ্চারার ও বর্বর শাসক ছিলেন তিনি? কলম্বাসের ব্যক্তিগত ডায়রি, সমুদ্র অভিযানের লগবই এবং তার সমসাময়িক নাবিকদের ডায়রি ও চিঠি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে তিনি তার প্রথম সাগর অভিযানে বাহামা, কিউবা, হাইতি এবং ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে কোন এক সমুদ্রতীরে পৌঁছান এবং প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে থেকে নিজের জন্য ব্যক্তিগত চাকর বানাতে শুরু করেন।  বাহামা, কিউবা, হাইতি এবং ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে তখন বাস ছিল টাইনো আদিবাসীদের। কলম্বাস লক্ষ্য করেন এরা অলংকার পরে। তিনি ধারনা করেন এখানে সোনাদানা রয়েছে। তার দলের কিছু মানুষ রেখে তিনি স্পেনে ফিরে যান। স্পেনের রাজা-রানীকে জানান, তিনি এশিয়া পৌঁছেছেন ও চীনের একটি দ্বীপে ঘাঁ...

বাংলাদেশ প্যারাডক্স

'বাংলাদেশ প্যারাডক্স' নামে একটা ধাঁধা বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন বৈঠকখানায় প্রায়শই উঁকি দেয়। এসব বৈঠকখানায় নাকি বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদগণ ও সমাজবিজ্ঞানীরা কোন বিশেষ তত্ত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ফেলতে না পেরে বাংলাদেশ নামের পাশে প্যারাডক্স শব্দ লাগিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেন।  হেনরি কিসিঞ্জারের সেই বহুল আলোচিত ভুল উদ্ধৃতি তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এবং অস্টিন রবিনসনের সেই ১২৫ বছর তত্ত্বের দেশ, কিভাবে, কেন, কোন ফর্মুলায় প্রাকৃতিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, এক দুর্ভিক্ষ, তিন সফল ও ৩০ টি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং চারটি ভয়াবহ বন্যা ঠেলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এনেছে এবং চোখ ধাঁধানো অর্থনীতিক উন্নয়নের খেলা দেখাচ্ছে তা তাদের বোধগম্য হয় না।   কোন কোন অর্থনীতিবিদেরা চোখ বড় বড় করে প্রশ্ন উল্লেখ করেন যেখানে গ্রিস, সাইপ্রাস, স্পেন   ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, বাংলাদেশ সেখানে কখনও ব্যর্থ হয়না। খরা, বন্যা, সাইক্লোন নিয়েও এদেশের মানুষ সুখী মানুষের হাসি দেয়, সাদা ভাত আর শাক দিয়ে দুইবেলে খেয়েও সুখী মানুষের ইনডেক্সে উপরের দিকে থাকে। এই অর্থনীতিক উন্নয়ন টেকসই কিনা তা নি...

The Art of Win-win situation

  Win-win situation নিয়ে আলোচনা করার সময় ইকবাল সিদ্দিকী ভাই চে গুয়েভারার মৃত্যুর কথাটা তোলেন।  আমি একমত হই না কিন্তু দ্বিমতও পোষণ করতে পারি না।  তিনি বলেন, 'ক্যাপিটালিস্ট রেজিম তারে গুলি কইরা হত্যা করবার পর তারই ছবি টি-শার্টের সামনে এবং পিছে ছাপাইয়া কোটি কোটি পিস বিক্রি করছে ওই বিপ্লবী চেতনাধারীগো কাছেই, কামাইছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। পুরা বিশ্বব্যাপী। ক্যাপিটালিস্টগো কাসে চে গুয়েভারার মৃত্যু উইন উইন সিচুয়েশন। বিপ্লবীরেও খতম করসে, আবার সেই মৃত্যুরে ব্যবহার কইরা টাকা কামাইসে।  আমি মন্তব্য করলে, 'যে ক্যাপিটালিস্ট মারসে আর যে ক্যাপিটালিস্ট টি-শার্ট বিক্রি করসে তারা তো এক না,' তিনি বলেন 'শোন, তুই যেমন মনে করস কারো জন্য ভালো করলে সেই ভালোটা তোর কাছে ফেরত আসবো, সেই একই তত্ত্বে ক্যাপিটালিস্টরা জানে একদিকে কামড়াইলে অন্যদিকে ঘর ভোরবো ডলারে। কিন্তু কথা সেইটা না, কথা হইল চে গুয়েভারার মৃত্যুরে তারা একটা 'বিজনেস কেইস' হিসেবে দাঁড়া করাইতে পারসে। এবং সেটা সাকসেসফুলি।  একটা সামান্য পজ দিয়া ইকবাল সিদ্দিকী ভাই প্রশ্ন ছুইড়া দেন, যেটার সদুত্তর  উত্তর আমার কাছে নাই, '...

সুইডেনে শীতের শেষ আর বসন্তের শুরু ৩০ এপ্রিল

 অবশেষে শীতের খোলস থেকে বের হচ্ছে এই শহর। গাছগুলো সজাগ হচ্ছে, পাখীগুলো ফিরে আসছে।  বেশ অনেকটা আমাদের পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত বরন করার মতো সুইডেনের মানুষরা ৩০ এপ্রিল দিনটিকে গ্রীষ্মের পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নিয়ে উদযাপন করে। এখানে এই উদযাপন ভ্যালপুরইস ইভ -  Walpurgis Eve বা ভ্যালবর্গ - Valborg নামে প্রচলিত। আজ তাদের এট্যিটুড আমাদের  'ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত' টাইপেরই। শহরের মানুষজনের মধ্যে চনমনে ভাব চলে এসেছে। তাপমাত্রা ৩ / ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস কিন্তু অনেকে জ্যাকেট / সুয়েটার ছাড়াই বের হচ্ছে।  আমাদের থেকে তাদের বসন্ত সংক্রান্ত আর্তি অনেক প্রখর কারণ এখানে শীতের স্থায়িত্ব ছয় মাস। আমাদের দেশে বসন্ত আসে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি আর এখানে এপ্রিলের শেষে। শীতের তীব্রতাও আমাদের দেশ থেকে এখানে কয়েকগুণ বেশী।  এরা এই দিনে ক্যাম্প ফায়ার করে, সমবেত হয়ে জোরে জোরে গান গায়, দলবল নিয়ে এলাকা / গ্রাম প্রদক্ষিণ করে, রাত জেগে ঘরের বাইরে আড্ডা দেয়, ছোট ছেলেমেয়ে হ্যালোইনের কায়দায় ট্রিক অর ট্রিট করতে বের হয়।  এমনিতে গুমোট মুখ করে থাকা সুইডিশদের চোখে মুখে আজ হাসি। ভ্যালপুরইস ইভের পর দ...

Bangladesh is 50 now!

Once known for massive floods, cyclones, political violence, economic degradation, destination of foreign donation is on the way to be known as a self-sufficient country in food, a country which is efficient in disaster management and as a country that is economically vibrant. In the past 20 years, Bangladesh showed efficiency and improvement in growth of exports, literacy ratio, infrastructure development, infant and child mortality rates, poverty alleviation and women empowerment. Bangladesh in fact showed it is possible for a country to rise from extreme poverty to achieve lower middle-income status within 50 years of independence. Life expectancy, literacy rates and per capita food production have increased significantly.  Within South Asia, the country improved its position ahead the rest in a number of these indicators. Stepping ahead from self-sufficiency, Bangladesh is the fourth-largest rice producer in the world, second-largest in jute, fifth-largest in vegetable producti...

সিপাহী মুন্সি আব্দুর রউফ বনাম পাকিস্তান আর্মির দ্বিতীয় কমান্ডো ব্যাটেলিয়ান

ঝকঝকে সকাল।  সিপাহী মুন্সি আব্দুর রউফ টিনের একটা মগে রঙ চা নিয়ে বসে আছে ক্যাম্পের ঠিক বাইরে। যুদ্ধের এই সময় চা খুব একটা পাওয়া যায় না। সকালের রোদে বসে চা খাওয়া মোটামুটি বিলাসিতা। স্থানীয় এক লোক গতকাল বিকালে চা পাতা দিয়ে গেছে তাই  আজকের এই আয়েশ। আটারুটি ভিজিয়ে দুধ চা খাওয়া মুন্সি আব্দুর রউফের খুব পছন্দ। অনেকদিন হলো তা খাওয়া হয় না। আজ রঙ চা পাওয়া গেছে, কম কি।     চায়ে চুমুক দিয়ে লেকের দিকে তাকায় রউফ। স্বচ্ছ, শান্ত, শীতল সবুজ পানি। লেকের মাঝে একটা বাঁশের মাথায় বসে আছে একটা পাখি। পানকৌড়ি নাকি? ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে রউফের চাকরীর বয়স আট বছর। দেখতে দেখতে কেটে গেল! রেজিম্যান্টেড জীবন, শান্তও না, শীতলও না। গতমাস থেকে তো উত্তাল।  আটটায় ডিউটি শুরু হবে। সে নানিয়ারচর উপজেলাধীন বাকছড়ি ক্যাম্পের অধীনে আছে। খবর আছে পাকিস্তান আর্মি অগ্রসর হচ্ছে এ দিকে। আজ কালকের মধ্যেই তারা রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি নৌপথ অতিক্রম করতে চাইবে।  রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি নৌপথ স্ট্রাটেজিক দিক দিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারন এ পথ পাকিস্তান আর্মি কোন ভাবে অতিক্রম করতে পারলে মানিকছড়ি, মহালছড়ি আর রামগড় আয়ত্ত...

৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 ...পাকিস্তান আর্মির ছোড়া মর্টারের গোলা থেকে স্প্লিনটারগুলো যখন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ডানহাঁটু ও কাঁধে বিঁধে, তখন তার বামকাঁধে আহত সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া। গোলার আঘাতে নূর মোহাম্মদ শেখ থুবড়ে সামনের দিকে পরেন। বাম হাত, বাম পা সচল। ডান হাত কিছুটা` নাড়াতে পারেন। তবে ডান পা হাতুর নীচ থেকে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। রক্তক্ষরণ হচ্ছে হাঁটু, পাজর আর কাঁধ থেকে।  তারিখ ছিল ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। সময় সকাল সাড়ে নয়টা। স্থান যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রাম।  ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ছিলেন গোয়ালহাটি ক্যাম্পের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সৈনিকদের একজন। ১২ বছর হয়ে গেছে ইপিআর-এ যোগদান করেছেন। চাকরীর শুরু থেকে দিনাজপুর সীমান্তে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বের জন্যে 'তকমা-ই-জং' ও 'সিতারা-ই-হারব' অর্জন করেছেন। জানতেন শত্রুপক্ষকে একবিন্দু ছাড় দিলে কি হয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যতক্ষণ সম্ভব আটকে রাখবেন পাকিস্তান আর্মিকে যাতে গোয়ালহাটির পাশেই সুতিপুরের মূল ঘাঁটিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ পান নিজেদের গুছিয়ে নেবার।    সেদিন নূর মোহাম্মদ ছিলেন একটা স্ট্যান্ডিং পেট্রোল টিমের ন...

সাইডট্র্যাক শাহ সুজা

শাহজাদা শাহ সুজার শেষ পরিণতি ও মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা আছে, এটা প্রথম শুনি দিল্লীতে বসে। ২০১৮ এর ডিসেম্বরে, আব্বার অপারেশনের সময়। গিয়েছিলাম সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি দেখতে। এক টুরিস্ট এর সাথে পরিচয়। এসেছেন পর্তুগাল থেকে। তিনিই বললেন সম্রাট শাহজাহানের সব ছেলেমেয়েদের কবর আছে, কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা লিপিবদ্ধ আছে, শুধু শাহ সুজারটি নেই। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে বললেন, কোন কোন সূত্র মতে শাহ সুজা জীবনের শেষ কিছুদিন চিটাগাঙের এক গ্রামে কাটিয়েছেন। হয়ে গিয়েছিলেন পীর! আমি জানতাম সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে যাবার পর তার ছেলেদের মধ্যে দিল্লীর মসনাদ দখলের যে ধ্বংসাত্মক লড়াই শুরু হয় তাতে বাংলার সুবাদার, শাহজাহানের মেঝ ছেলে শাহ সুজা বিপুল বিক্রমে যোগ দেন এবং ভয়াবহ ভাবে পরাজিত হয়ে আরাকান রাজ্যে পালিয়ে যান। কিন্তু চূড়ান্ত পরিণতির ব্যাপারে জানতাম না কিছুই। সারা মোগল ইতিহাস ভীষণ কৌতহলদিপ্তক কিন্তু সম্রাট শাহজাহানের পতন ও একমাত্র মোগল সম্রাট হিসেবে নিজের ছেলের কাছে সিংহাসন হারানোর কাহিনী সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। সেখানে শাহ সুজা সাইডট্র্যাক হয়ে যান সহজেই। দফায় দফায় হেরে যাওয়া, পলায়নরত এই শাহজাদাকে নিয়ে ঘাটা...

শাহজাদা দারা শিকোর মৃত্যু

যেদিন বড়ভাই দারা শিকোকে শিরোচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়, সেদিন আওরঙ্গজেব তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে ‘যদি নিয়তি উল্টো হতো, তাহলে ঠিক কী হতো?’  দারা উত্তর দিয়েছিলেন নিয়তি উল্টো হলে তিনি আওরঙ্গজেবের শরীরকে চার ভাগ করে দিল্লীর প্রধান চার সিংহ-দরজায় একেকটি ভাগ ঝুলিয়ে রাখতেন। সম্রাট শাহজাহান যখন সেজছেলে আওরঙ্গজেবের কাছে সাম্রাজ্য হারান এবং অন্য ছেলেদের খুন হতে দেখেন, ইতালির ইতিহাসবিদ নিক্কোলাও মানুচ্চি সেই সময়ে ভারতে ছিলেন। তাঁর 'স্তোরিয়া দো মগর' বইয়ে তিনি এই ঘটনা লিখেছেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রাশকা মুঘল সাম্রাজ্যের উপর গবেষণা করেছেন বিস্তর। তিনি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের শিক্ষক ছিলেন। আওরঙ্গজেবের বদলে যদি দারা শিকো যদি ৬ষ্ঠ মুঘল সম্রাট হতেন, তাহলে কী হতো প্রশ্নের উত্তরে অড্রে ট্রাশকার তার বই দ্যা ম্যান অ্যান্ড দ্যা মিথে লিখেছেন "বাস্তবতা হলো মুঘল সাম্রাজ্য চালানো কিংবা জয় করার ক্ষমতা দারা শিকোর ছিলো না। আওরঙ্গজেবের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁর ছিলো না।" আওরঙ্গজেব আসলে - যো জিতা ওয়াহি সিকান্দার। তিনি চতুর ছিলেন, সমরকুশলে বাকীদের চেয়ে পারদর্শী ছিলেন ও বেশ কূ...

মানবতার, ধর্মনিরপেক্ষতার জয়

...পাকিস্তান সরকারের কাছে ও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর  কাছে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, অন্য সবকিছু ছাপিয়ে, ছিল ধর্মের যুদ্ধ। তাদের কাছে এটা জিহাদ ছিল। আর এই  দেশে অবস্থানকারী আলবদর  ও রাজাকারদের কাছে এটা ছিল ইসলামকে সেবা করার সুযোগ। জিহাদের জন্য পাকিস্তান সরকার সেই সময় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে অর্থও  সংগ্রহ করে। পত্রিকায় দেয় বিজ্ঞাপন যেখানে যুদ্ধকে জিহাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃত ইসলাম থেকে যোজন যোজন দূরে থেকে এরা ইসলামকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য, একটা বৈষম্যহীন সমাজের জন্য, ধর্মনিরপেক্ষতার  জন্য। বলা বাহুল্য মানবতার, ধর্মনিরপেক্ষতার জয় হয়েছিলো প্রবল ভাবে। পাকিস্তান যে আসলে কিছু আরব দেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলো তার প্রমান এই সব আরব দেশ গুলো দিয়েছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর স্বীকৃতি না দেবার মাধ্যমে। পাকিস্তানের বিভক্তিকে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা দেখেছিল ইসলামের পরাজয় হিসেবে। এই জন্য সৌদি আরব বাংলাদেশকে ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট ১৯৭৫; বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর! এর আগে ‘ধর্ম নিরপেক্ষ’ দেশ বলে বাংলাদেশ...

১৪শ শতাব্দীর ব্ল্যাক ডেথ - কাল মৃত্যু

ইউরোপ ১৩৪৭ সাল থেকে ১৩৫১ সাল পর্যন্ত বিধ্বংসী ‘ব্ল্যাক ডেথ’ দেখেছে। কাল মৃত্যু। মহামারীর অনেক বৈশিষ্ট্যের একটা হলো এটা বাণিজ্য পথ ধরে আগাতে সাচ্ছন্দবোধ করে। বাণিজ্য পথ ধরেই ১৪শ শতাব্দীতে ব্ল্যাক ডেথখ্যাত প্লেগ এশিয়া থেকে ইউরোপে ঢুকে। এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র পোকা বা মাছি প্লেগ রোগ বয়ে বেড়াতো। পোকাগুলো থাকতো ইঁদুরের গায়ে।  ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, ইঁদুর থেকে মানুষে জীবাণু স্থানান্তর হতো। বাণিজ্যিক জাহাজে চেপে এসব ইঁদুর প্লেগ এশিয়া থেকে পৌঁছে গিয়েছিল ইউরোপীয় শহরগুলোয়। ছোঁয়াচে এ রোগ দ্রুত ছড়াতো, রোগীকে মেরেও ফেলত অল্পসময়ে। তিনদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু হত আক্রান্তদের। এই মহামারীর প্রভাব  ইউরোপ বয়ে বেড়িয়েছে পরবর্তী ২০০ বছর। ব্ল্যাক ডেথ সেই সময় ইউরোপের অর্থনৈতিক সার্বিক জীবন কাঠামো বদলে দেয় অনেকটা, বদলে দেয় শিল্প-সাহিত্য, বদলে দেয় স্বাস্থ্যসেবা। ইন্টারেস্টিংলি, ব্ল্যাক ডেথের শুরু  ১৩৩১ সালে চীনের ইউয়ান সাম্রাজ্যে বলে মনে করেন অনেক গবেষক। সেই সময় সেখানে এক মহামারী হয়েছিল। তিন বছর পর হেবেই প্রদেশের ৫০ লাখ মানুষ প্লেগে মারা যায়। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন মোঙ্গল শাস...

ব্রেক্সিটের সরল, জটিল সমীকরণ

গ্রেট ব্রিটেন সবার সাথে একা খেলতে চায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দলের হয়ে না। তাই ব্রেক্সিট হয়ে গেছে। ৪৭ বছরের সম্পর্ক শেষ। ব্রিটেন এখন বিশ্ব সংসারের,শুধু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়েছে কিন্তু ইউরোপ থেকে তো বের হতে পারবে না। থাকবে, ফিরবে কিন্তু দলের হয়ে খেলবে না, একা খেলবে। তারা ফর্মুলা বের করেছে যে একা খেললেই অর্থনীতিক সমৃদ্ধি বেশী হবে, পলিটিকাল মাইলেজ বেশী পাবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জন্য এটা একটা ঐতিহাসিক বিপদ সংকেত বটে। দল ছিল ২৮ জনের। মূল খেলোয়ারদের একজন বের হয়ে গেল। ইউনিয়ন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল একতা, একত্রে অগ্রগতি, একত্রে সমস্যা মুকাবেলা। এই একতায় ভাঙ্গন হলো। সামনে যে আর কোন স্টার প্লেয়ার এক্সিট নিয়া মাতং করবে না এর গ্যারান্টি কই! বর্তমান ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার বরিস জনসনের ইলেকশন ম্যানডেটই ছিলো ব্রেক্সিট কায়েম করা আর চাকরীর ক্ষেত্র বাড়ানো। এইটা ইংগিত দেয় যে ওয়ার্কিং ক্লাস ডেস্পারেট হয়ে গিয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাইরে যেতে। বরিস জনসন চালু মানুষ। ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবার পরে তিনি ক্যাবিনেট মিটিং ডেকেছিলেন সানদারল্যান্ডে যেটা প্রো-ব্রেক্সিট টাউন হিসাবে পরিচিত।...

Uppsala - a must visit in Sweden

Legacy of Carl Linnaeus, rich cultural life, century old history, beautiful landscape are the things found in Uppsala. Until the 13th century, the city was known as Östra Aros. 1,500 years ago, power centre of the land of the Swedes was here. It had a place of worship and also was an important centre for trade and Tingshögen gatherings. Tingshögen gatherings were where general assembly met for creating laws and conducting administration of justice. An impressive cathedral, along with the pink-colored castle, dominates the city skyline. The town is home to the first university of Scandinavia - Uppsala University, which was founded in 1477. Among the University’s alumni there are 15 Nobel Prize laureates, of which 8 received their prizes for discoveries made during their time at Uppsala University.

IKEA - still a Swedish company

To many people IKEA is one of the most noteworthy Swedish success stories, to some it the largest furniture retailer of the world and to few, it is a company that sells a Scandinavian lifestyle that customers around the world truly embrace.  From a small town company, IKEA slowly became regional and a global giant. It started by selling pen, watches, wallets and ended up selling each and everything a household requires - furniture, appliance, small motor vehicles, and home accessories. In the process, it created a success story that cannot be replicated.  Ingvar Kamprad, the founder of IKEA, learnt how to bridge over the difficulties with strong willpower and perseverance from his grandmother. His grandfather committed suicide after failing to pay the mortgage as their family business went on the verge of bankruptcy. That’s when his grandmother had to step in.  The IKEA founder showed good trading skills from the age of seven when he started selling Christmas ...

Things I now know about Uppsala Cathedral

Near the river of Fyris, stands the landmark of Uppsala - the Uppsala Cathedral. It was the traditional location for the coronation of new kings of Sweden. A group of French architects including Étienne de Bonneuil designed the Uppsala Cathedral. Construction was complete in the year of 1435. The church towers were added later in the 15th century. It is the largest and also the tallest cathedral in the Nordic countries. King Eric IX on the 12th century, King Gustav Vasa and King Johan III of the 16th century and their queens are among the royals buried in Uppsala Cathedral. It was not a regular worship place of common people until the reformation in 1702 and was only reserved for official services of the Catholic Church hierarchy. The Treasury, locally known as Skattkammaren, is situated in the north tower. It is home to one of Europe’s finest collections of medieval church fabrics. The 18th century building to the left of the cathedral's main entrance is now the...

Gamla Uppsala - Capital of old Sweden

Before Christianity arrived in Sweden, Gamla Uppsala was a place where Swedish Kings held ceremonies. And this area was a place for Royal burial and the great Pagan Temple. The priests sacrificed animals and humans to the Gods according to the prayers and desires of kings and the common people. In the 1070s, it had wooden statues of the Norse gods Odin, Freyr and Thor. There were also a golden chain. In the 12th century, it was turned into Christian Cathedral. The wooden house became a stone building. In the 15th century, kings added vaults and chalk paintings. Among many royals and priests, Archbishop of Uppsala and Eric IX of Sweden were buried here.

Stockholm - city between the bridges

I came across the world to the junction of Lake Mälar and Salt Bay, which is an arm of the Baltic Sea, to find a beautiful city known as Stockholm. Swedish ruler Birger Jarl planned the city with his artistic mind in 1252, as if he knew I will come here after 800 years of his demise. At that time, trade and commerce were growing across Europe and many new towns were founded; Stockholm being one. This majestic city of Stockholm came to be officially regarded as the capital of  Sweden in the year of 1436; and after many conflicts with the Danes, was liberated from Danish rule by Gustav I Vasa in 1523. Had I been there, I would have fought to liberate Stockholm sooner. But I am here now. The glory times started for Stockholm in the mid-17th century. The central government departments were built after the city became an independent administrative unit. The old city walls were torn down, and new districts grew up. Literary societies and scientific academies thrived....

Bomb Attacks in Sri Lanka: Who, How, Why

Sri Lankan police were on high alert for last two weeks, fearing that suicide bombers, supposedly from National Thowheeth Jama’ath, might strike prominent churches during the Easter. Two foreign intelligence agencies also reported in early April that radical Muslims those came back from Syria are planning to carry out suicide attacks at prominent churches and high commissions in Colombo.  The police increased security around important establishments including churches but could not prevent the deadliest attack in the history of the country since the end of the civil war in 2009. Earlier this year, in January, the police seized a cache of explosives and detonators and arrested four members of National Thowheeth Jama’ath following an intelligent information. This time the perpetrators slipped through. At least 208 people were killed and 450 were hurt in the explosions at churches and high-end hotels on Sunday, 21 April. Perpetrators were all Sri Lankan nationals. The founder...

কেন ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালিকে হাতে তুলে নিতে হয়েছিল অস্ত্র? স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট কি ছিল?

১৭৫৭ সাল - ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেয় ১৯৪৭ সাল - ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়; সৃষ্টি হয় দুই দেশ - মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান ও হিন্দুদের জন্য ভারত ১৯৫২ সাল - ভাষা আন্দোলন ১৯৬৬ সাল - ছয় দফা দাবী ১৯৬৯ সাল - গণআন্দোলন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পতন। ইয়াহিয়া খানের আগমন ১৯৭০ সাল - সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ১৬৭ টি আসন নিয়ে। ১৯৭১ সাল -  মার্চ ১ - জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হলো মার্চ ৭ - বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করলেন - এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। মার্চ ১৫ - প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনা করতে মার্চ ২৫ - সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে মার্চ ২৬ -পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে বাঙ্গালীরা তথ্য উপাত্ত লাহোর প্রস্তাব হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবী জানিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবনা। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্থানের লাহোরে  নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সম্মেলনে সম্মেলনে শেরে বা...

দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া

দিল্লীর প্রবীণরা উর্দু ও হিন্দীর মিশ্রণে বলেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে যে কজন সাধক এসে সুফি মতবাদকে জনপ্রিয় করেছেন নিজামউদ্দিন আউলিয়া তাদে মধ্যে পথিকৃৎ। চিশতিয়া তরিকার সুফি সাধক ছিলেন তিনি। তারা বলেন যে তৎকালীন দিল্লীবাসীর উপর ব্যক্তিত্বের জাদু নিয়ে নিজামউদ্দিন আউলিয়া প্রবল প্রভাব বিস্তার করেন এবং পার্থিব বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনেন। নিজামউদ্দিন আউলিয়া নাকি বলতেন খোদার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ আর তাই মানুষকে ভালোবাসলেই খোদা সবচেয়ে বেশি খুশি হন।  স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বুঝা গেল, ছোট বেলায় মা খালাদের মুখে ইসলামের গুণগান সম্বলিত গল্পসমূহে যে নিজাম ডাকাতের উপস্থিতি ছিল যেখানে তিনি ৯৯জন লোক খুন করার পর আওলিয়া হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন সেটা আদতে অন্যান্য ধর্মীয়  কল্পকাহিনীর মতনই বানানো; রূপকথা। নিজামউদ্দিন আউলিয়া উঠতি বয়সেই সুফি মতবাদ লাভ করেছিলেন এবং তা চর্চা করে আধ্যাত্মিকতা লাভ করেছিলেন। তিনি আদতে কোন খুন করেননি। নিজামউদ্দিন আউলিয়ার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ। বংশগত দিক থেকে তিনি ছিলেন হযরত আলী (রা.) এর উত্তরসূরি। তার মৃত্যুর পর ফিরোজ শাহ তুঘলক কবরে সমাধি-সৌধ নির্মাণ করলেও প...