Posts

Featured Post

প্রাথমিক কারন খুব সরল

বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করার প্রাথমিক কারন খুব সরল - তিনি পাকিস্তানকে দুইভাগ করেছেন। ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট একটা দেশকে দুইভাগ করাতে পাকিস্তান প্রেমিকদের কাছে তিনিতো ঘৃণার পাত্রই হবেন। ধারনা করা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান সৌদি আরবের সাথে মিলে ইসলামের ঝান্ডা উড়াবে। কিন্তু ১৯৫২ সালেই স্পষ্ট হয়ে যায় এ ঝান্ডা মুখ থুবড়ে পরতে যাচ্ছে; কালের আবর্তনে পরিস্কার হয়েছে পাকিস্তান ইসলামের ঝান্ডা তো উড়াতে পারেইনি বরং কলঙ্ক রুপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের কুটিলতা এবং পাকিস্তানি আর্মির বর্বরতা এসব পাকিস্তান প্রেমিকরা অস্বীকার করতে পারে না তাই তাদের অস্বস্তি হয় এই বিচ্ছেদে, এই বিভক্তিতে। এই পাকিস্তান প্রেমিকদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম আর পাকিস্তান এক নয়, তাদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম ও সৌদি আরবও এক নয়; এদের মস্তিস্কে ঢোকানো হয়েছে যে এই তিনের মিলনেই ইসলামী জোস, ঈমানি জোস তাই পাকিস্তানের যে কোন শোচনীয় পরাজয়কে তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়কেও তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে আর যেহেতু এইসব পাকিস্তানি প্রেমিকেরা জেনেটিক ভাবেই গোড়া, তারা বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করে …

১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ব্যার্থ সিপাহী বিপ্লব ও অতঃপর

Image
১৯৭৫ এর ৭ই নভেম্বর উত্থান হয়েছিল জিয়াউর রহমানের। সেদিনের পর থেকে তিনি বনে গিয়েছিলেন সারা দেশের হর্তাকর্তা। কিন্তু দিনকাল খুব একটা নির্বিঘ্ন কাটেনি তার; প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে, মোকাবেলা করতে হয়েছে সামরিক বাহিনীর ভেতরে এবং বাইরে অসন্তোষ, মোকাবেলা করতে হয়েছে জাসদের আক্রোশ, মোকাবেলা করতে হয়েছে বেয়াড়া আমলাদের। ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার মানুষ, ট্রেনিং পেয়েছিলেন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীতে, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ এ যুদ্ধ করেছেন সামনা সামনি, আবার পাকিস্তানের গোয়েন্দা দপ্তরেও বহু বছর কাজ করেছেন।  এসবের অভিজ্ঞতা দিয়ে বেশ সফল ভাবেই তিনি অসন্তোষ,আক্রোশ, বেয়াড়াপনা সামাল দিচ্ছিলেন। ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রিয় তিনটি প্রধান পদ জিয়াউর রহমান নিজের করে নিয়েছিলেন - সেনাবাহিনী প্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ( চীফ মার্শাল'ল অ্যাডমিনিস্ট্রাটর )। তিনিই সর্বেসর্বা। এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট হয়েই তার প্রথম কাজ গুলোর একটি ছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকারী অফিসারদের কাউকে কাউকে সেনাবাহিনীর চাকরীতে বহাল করা এবং কাউকে কাউকে বিভিন্ন দেশের দুতাবাসে চাকরী…

বুকে গুলি করসেন না মাথায়?

Image
১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ইতিহাসে, লেখালিখিতে, তর্ক -বিতর্কে প্রবল প্রতাপে বিচরন করে।  ১৯৮১ সালের জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডও একরকম তাই। কিন্তু  ১৯৭৬ সালে ফারুক-রশিদ-ডালিম গংয়ের ক্যু করার প্রচেষ্টা এবং ১৯৭৭ সালের বিমানবাহিনীর সৈনিকদের করা বিদ্রোহ নিয়ে খুব একটা কথাবার্তা, লেখালিখি হয় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ বড় ছেলে, ১৯৮১ সেজ ছেলে এবং ১৯৯০ ছোট ছেলে। মেঝ ছেলে ১৯৭৭ মুখচোরা, কোথাও তার উচ্চবাচ্য নেই। তাই অবাক হয়েছি যখন দেখলাম দেশের অন্যতম প্রধান চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেই ইতিহাসের একটা অংশ নিয়ে আনিসুল হকের আয়েশামঙ্গল উপন্যাস অবলম্বনে একটা টেলিফিল্ম তৈরি করেছেন এবং তা দর্শকদের মাঝে প্রচণ্ড অগ্রহ তৈরি করেছে।

১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল ও সাপ্লাই কোরের সৈনিকরা এবং বিমানবাহিনীর সৈনিকরা যে বিদ্রোহ করে, তাতে তারা বিদ্রোহের প্রথম প্রহরেই তেজগাঁও বিমানবন্দরে ১১ জন অফিসার ও এক অফিসারের ১৬ বছরের ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। নিশ্চিত ভাবেই সে প্রহরে ফিরে এসেছিল '৭৫ এর ৭ নভেম্বরের রক্তনেশা - অফিসারের রক্ত চাই, সৈনিক-সৈনিক ভাই ভাই। কিন্তু সরকার (…

অকেজো ক্যাসিও ঘড়ি, একটি পেয়ারা গাছ ও মাকসুদের গান

Image
আমি একটা অকেজো ক্যাসিও ঘড়ি ও একটা পেয়ারা গাছ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ক্যাসিও ঘড়িটি অকেজো হবার পরও আমি বাহাতে পরে থাকতাম কারন সেটা আমার প্রিয় ছিল কিন্তু একদিন তা আমি হারিয়ে ফেললাম। শৈশবে আমরা একটা বাংলোর মতন বাড়ীতে থাকতাম; ঠিকানা ৯/২ মইনুল রোড। সীমানার ভেতরে, গেইটের ঠিক ডানে একটা মাঠের মতন যায়গা ছিল আর সেখানে ছিল একটা পেয়ারা গাছ। গাছটি ফর্শা ছিল, তাতে পেয়ারাও ধরত ফর্শা; আমি পেয়ারা গাছটিকে ভালবেসেছিলাম কিন্তু একদিন তা আমি হারিয়ে ফেললাম। কড়া শাসনের মধ্যে বড় হতে হয়েছে আমাকে, গণ্ডি ছিল ছোট; কিন্ত সেটা শৈশব ও কৈশোরের উদ্দীপনাকে শেকলে বেধে রাখতে পারেনি তেমন; প্রথম প্রেমে পড়া, প্রথম স্কুল পালানো, প্রথম পরীক্ষার শূন্য পাওয়া খাতা লুকানো, প্রথম আত্মমৈথুন, প্রথম ছক্কা, প্রথম গোল, প্রথম চিৎকার, প্রথম বাড়ী ছেড়ে পালানোর অভিজ্ঞতা শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেবার সময়টাতে সেই ৯/২ মইনুল রোডের বাসায়। সঙ্গী ছিল একটা অকেজো ক্যাসিও ঘড়ি ও একটা পেয়ারা গাছ। চল ছিল ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শুনবার, আমার কান তৈরি হচ্ছিল গীটার আর ড্রামসের সংমিশ্রণের তালে তালে। একদিন হাতে সেই অকেজো ক্যাসিও ঘড়ি পরে এবং ফর্শা পেয়ারা গাছের ততোধিক ফর্শ…

খন্দকার মোশতাক আহমেদের পাকিস্তান কনফেডারেশন

Image
খন্দকার মোশতাক - মাহাবুবুল আলম চাষী -  তাহের উদ্দিন ঠাকুর ত্রয়ী ১৫ আগস্ট সকালে বাংলাদেশ রেডিও স্টুডিওতে এক সঙ্গে প্রবেশ করেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে এক বেলাও পার হয়নি, মৃতদেহগুলো তখনো ৩২ নম্বরের বাড়ীতে পরে আছে।

মোশতাক - চাষী- ঠাকুর ত্রয়ী রেডিও স্টুডিওতে, তিন বাহিনী প্রধানের উপস্থিতিতে, মুজিব সরকারের পতন এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহনের সংবাদ ঘোষণা দেন। শুরুহয় পাকিস্তান কনফেডারেশনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মোশতাক - চাষী- ঠাকুরদের স্টুডিওতে উপস্থিতি ও  প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহন একদম ছকে বাঁধা। এই হবার কথা ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশর প্রবাসী সরকার দুটি লবিতে বিভক্ত ছিল - সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের ছত্রছায়ায় একটি লবির নেতেৃত্বে ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদিআরবের ছত্রছায়ায় অন্য লবির নেতেৃত্বে ছিলেন ধার্মিক মুসলমান খন্দকার মোশতাক আহমেদ। মে মাসে খন্দকার মোশতাক ও তার পররাষ্ট্র সচিব চাষী মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেন এবং ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ’ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে  দুই পাকিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ রাখার একটি ফর্মুলা বের করেন। ফর্মুলাটি ছিল পাকিস্তানি আর্মি…

জীবনানন্দ দাশের ফেলে যাওয়া শহর

Image
বরিশাল শহরের খানাখন্দভরা বগুড়া রোড এগিয়ে গেলে একটা হাসপাতাল, হাসপতালের পাশে একটা রিক্সার গ্যারেজ, তার পাশে গাছ-গাছালি ঘেরা একটি বাড়ির দরোজা। ফলকে কালো হরফে লেখা 'ধানসিড়ি'।  মৃত্যুর পর সমাদর পাওয়া জীবনানন্দ দাশ এখানে থাকতেন! লিখতেন ভোরের নির্মল আকাশ, শিশির ভেজা ঘাস, ধানের ক্ষেতের উদ্দাম আর নাটোরের বনলতা সেনকে নিয়ে। 

জীবনানন্দ দাশ হাঁটতেন এ শহরে; কলাবতী ফুল, কলমিলতা আর পুকুরে ফোটা শাপলার মাঝে দেখতেন রূপসী বাংলা, প্রথম প্রেমিকা মুনিয়ার সাথে দেখা করতে যেতেন অক্সফোর্ড মিশনের গির্জায়, ব্রজমোহন কলেজের লাল দালানের সিঁড়িতে বসে লিখতেন কবিতা। শুকতারা, জোনাকি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে লেখার খাতায় তুলেছিলেন - মনে হয় একদিন আকাশের শুকতারা দেখিব না আর; দেখিব না হেলেঞ্চার ঝোপ থেকে এক ঝাড় জোনাকি কখন নিভে যায়’।  কৈশোরের সৃতি নিয়ে লিখেছিলেন - কোথায় গিয়েছে আজ সেইসব পাখি, আর সেইসব ঘোড়া; সেই শাদা দালানের নারী ?

১৯৪৬ সালের ৮ জুলাই ব্রজমোহন কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতা যান জীবনানন্দ। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, সামপ্রদায়িক দাঙ্গা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে আর বরিশালে ফেরা হয়নি তার।
কীর্তনখোলা নদীর …

It was a fake promise

Image
A zoology student named Alexander Ulyanov hated his ruler Tsar Alexander III and like other haters, tried to change the society by killing the Tsar. It was 1887. He was naive so he failed. The police arrested him and his companions. He was, as anticipated, hanged to death. The man's younger brother Ilyich Ulyanov became a revolutionary in later years and intrigued the middle class to revolt against the Tsar in times when the world was at World War I. He showed dreams of a country that is meant for common people and took chances of the leadership vacuum in the country. He successfully led a bloody civil war and became the common men’s ruler in November 1917. In other words, he established first ever communist regime of the world in disguises of dictatorship. He took power claiming to be carrying the ‘will of the people’, whatever that means. People of his land paid heavily in following years due to his false hopes of shitty communism and bloody way to running the country. He reveng…

শাহাবুদ্দিন আহমেদ - একজন বিদ্রোহী শিল্পী

Image
১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সময়কার কথা। এক আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে গেছে তার ভাইয়ের সাথে। ছেলের নাম-ডাক আছে কিছু, স্কুলে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ছবি এঁকে। দোতলায় সিঁড়িতে বসা নেতাগোছের এক ভদ্রলোক। মুখভর্তি তার দাড়ি। ভদ্রলোক তাকে বলেন - আমরা আন্দোলনের নতুন ধারায় যাচ্ছি, এরা বুঝতে পারছে না স্লোগানের মর্ম, তুমি তো শিল্পী, তুমি বুঝবে - ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’! আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলের চেতনার ভিতকে প্রবল ভাবে নাড়িয়ে দেয় এ স্লোগান, সে অনুরোধ করে - আরেকটা বলেন। এবার ভদ্রলোক অন্তরের সকল আবেগ দিয়ে বলেন - 'জয় বাংলা'। এই স্লোগান শুনে আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলের ভেতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি জেগে উঠে। সে মুহূর্তেই সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনের সাথে। বলে - আমাকে কী করতে হবে বলুন। সেই শুরু হলো তার স্লোগানের সঙ্গে মিলিয়ে ছবি রাজনৈতিক আঁকা। এই ছেলে পরে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টায়, তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের সামনে পাকিস্তানের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়।

মুখভর্তি দাড়িওয়ালা লোকটি সিরাজুল আলম খান আর আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলেটি শিল্পী শাহাবুদ্দ…