একজন পিতা

মাহবুব হামিদ থাকেন রাজশাহীতে। ছোট-খাটো ব্যবসা করেন। পাড়ার কিছু দুরন্ত ছেলেপেলেরা একদিন এসে বলল "আংকেল একশ টাকা দিতে হবে, ভ্যানভাড়া লাগবে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন "কিসের জন্য ভ্যানভাড়া?" ছেলেরা উত্তরে বলল "কাল আমাদের ফাইনাল খেলা আছে, আমরা খেলতে যাব। আমাদের দুটি ভ্যান লাগবে। একটার ভাড়া একশ টাকা পেয়েছি। আরেকটার ভাড়া আপনার কাছ থেকে নেব।" মাহবুব হামিদের ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে; সেও ক্রিকেট পাগল। তাই তিনি জানেন এসব কিশোরদের খেলার স্পৃহা। তিনি টাকা দিয়ে বললেন "যাও, নিয়ে যাও।" টাকা নিয়ে ছেলেরা বলল "আংকেল, আপনি খেলা দেখতে আইসেন।" পরদিন ছিল শুক্রবার, বন্ধের দিন। মাহবুব হামিদ জুম্মার নামাজ পড়ে খেলা দেখতে গেলেন। কিন্তু গিয়ে দেখেন খেলা শেষ। জিজ্ঞেস করলেন "কি ব্যাপার?" উপস্থিত ছেলেরা জানালো ত্রিশ ওভারের খেলা ছিল কিন্তু প্রতিপক্ষ ত্রিশ ওভারে যে রান করেছে, সেই রান তাদের দল দশ ওভারেই করে ফেলেছে তাই আগে আগে খেলা শেষ। খেলা আর মাহবুব হামিদের দেখা হলো না। একটু পর খেলার পুরস্কার বিতরণী শুরু হলো। ওখানে এক ভদ্রলোক ছিলেন যিনি একসময় বগুড়া দলে খেলতেন। উনি মাহবুব হামিদকে জিজ্ঞেস করলেন "আপনার এই ছেলের কোচ কে?" মাহবুব হামিদ আকাশ থেকে পড়লেন। বললেন, "আমার ছেলে খেলেছে এই মাঠে! আমি তো ভেবেছি ও খেলা দেখতে এসেছে। কারণ ওতো পিচ্চি, বয়স দশ কি এগারো।" ভদ্রলোক বললেন, "আরে ও তো ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছে।" মাহবুব হামিদ তখন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ কী জিনিস, তা ভাল বোঝেন না। ভদ্রলোক তাকে আরও বললেন "আপনার ছেলের ফুটওয়ার্ক খুবই ভালো।" মাহবুব হামিদ ভাবলেন - ব্যাটতো হাত দিয়ে বলের উপর খেলবে, সেখানে পায়ের কী কাজ? বললেন "না তো, ওর তো কোনও কোচ নাই। তবে সে ইএসপিএনে খেলা দেখে খুব। মনে হয় সেখান থেকেই খেলা শিখেছে।" এই ঘটনার এক বছর পর মাহবুব হামিদ তার ছেলেকে বিকেএসপিতে ভর্তি করে দিলেন। এই ছেলের নাম মুশফিকুর রহিম। সাংবাদিকদের অনেক কাজের এক কাজ প্যাচ লাগানো। মাহবুব হামিদকে ২০১৫ তে প্রশ্ন করা হয়েছিল মুসফিকের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেবার পর তিনি ছেলেকে কি সান্ত্বনা দিয়েছেন। মাহবুব হামিদ জানিয়েছিলেন "এক ছেলের হাত থেকে নেতৃত্ব আরেক ছেলে পেয়েছে, সান্ত্বনা দেবার কিছু নাই।"

Comments

Popular posts from this blog

How strong is Myanmar's military?

বিমান দুর্ঘটনা

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ নাগরদোলায় অনৈক্য,বিভক্তি ও সংঘাত (প্রথম পর্ব)