১৯৮৪ সালের বিমান দুর্ঘটনা

১৯৮৪ সালের ৫ ই আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি এফ-২৭ বিমান চিটাগাং থেকে ঢাকায় আসছিল। ঐ সময় ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল এবং প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিলোনা। পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন কানিজ ফাতেমা, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলট। প্রথমে তিনি ২৩ নং রানওয়েতে ল্যান্ডিং করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রানওয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারেন যে তিনি ভুল দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। তারপর তিনি ILS (এক ধরনের রেডিও বিম ট্রান্সমিটার যেটা বিমান কে পথ নির্দেশনা দেয়) এর মাধ্যমে ১৪ নং রানওয়েতে ল্যান্ড করার চেষ্টা করেন কিন্তু আবার ব্যর্থ হন। তৃতীয়বার ল্যান্ডিং চেষ্টা করার সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে একটা ডোবায় আবতরন করে এবং বিধ্বস্ত হয়। জায়গাটা উত্তরা জসিমুদ্দিন রোডের কাছে। বিমানটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। ৪ জন ক্রু সহ ৪৯ যাত্রীর সবাই নিহত হন।

ফকার কোম্পানি নির্মিত এই বিমানটি PIA এর জন্য নির্মিত হয়েছিল। ডেলিভারির সময় ছিল ১৯৭১। যেহেতু ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তাই ফকার কোম্পানি PIA এর কাছে বিমানটি ডেলিভারি করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর PIA বিমানটি গ্রহন করেনি। পরে এই বিমানটি (registration S2-ABJ) ডাচ সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ১৯৭৬ সালে উপহার হিসেবে দেয়।

১৯৯৭ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি এফ-২৮ স্থানীয় ফ্লাইট ঢাকা থেকে আসার সময় সিলেট বিমান বন্দর থেকে ৩ কি:মি দূরে ধান ক্ষেতে অবতরন করে। বিমানটি ৫৬ জন যাত্রী বহন করছিল। শীতকালীন কুয়াশার কারনে পাইলটের দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। সিলেট বিমান বন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের কোন ধারনা ছিলনা বিমানটিতে কি ঘটেছিল। বিধ্বস্ত হবার ২ ঘন্টা পর গ্রামবাসীদের মাধ্যমে তারা খবর পান। ঐ ঘটনায় ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছিল, কেউ নিহত হয়নি। 

Comments

Popular posts from this blog

How strong is Myanmar's military?

বিমান দুর্ঘটনা

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ নাগরদোলায় অনৈক্য,বিভক্তি ও সংঘাত (প্রথম পর্ব)