Posts

Featured Post

প্রাথমিক কারন খুব সরল

বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করার প্রাথমিক কারন খুব সরল - তিনি পাকিস্তানকে দুইভাগ করেছেন। ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট একটা দেশকে দুইভাগ করাতে পাকিস্তান প্রেমিকদের কাছে তিনিতো ঘৃণার পাত্রই হবেন। ধারনা করা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান সৌদি আরবের সাথে মিলে ইসলামের ঝান্ডা উড়াবে। কিন্তু ১৯৫২ সালেই স্পষ্ট হয়ে যায় এ ঝান্ডা মুখ থুবড়ে পরতে যাচ্ছে; কালের আবর্তনে পরিস্কার হয়েছে পাকিস্তান ইসলামের ঝান্ডা তো উড়াতে পারেইনি বরং কলঙ্ক রুপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের কুটিলতা এবং পাকিস্তানি আর্মির বর্বরতা এসব পাকিস্তান প্রেমিকরা অস্বীকার করতে পারে না তাই তাদের অস্বস্তি হয় এই বিচ্ছেদে, এই বিভক্তিতে। এই পাকিস্তান প্রেমিকদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম আর পাকিস্তান এক নয়, তাদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম ও সৌদি আরবও এক নয়; এদের মস্তিস্কে ঢোকানো হয়েছে যে এই তিনের মিলনেই ইসলামী জোস, ঈমানি জোস তাই পাকিস্তানের যে কোন শোচনীয় পরাজয়কে তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়কেও তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে আর যেহেতু এইসব পাকিস্তানি প্রেমিকেরা জেনেটিক ভাবেই গোড়া, তারা বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করে …

'F*ck the বিপ্লব' এখনো গল্প হয়ে উঠতে পারেনি

Image
...খুব ইচ্ছে ছিল আমার প্রকাশিত প্রথম বইটিতে ১২টি গল্প থাকবে। কিন্তু প্রকাশকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মাঝে ১১টি গল্প তৈরি করতে পেরেছিলাম আর ৩টি নির্মাণাধীন ছিল। চেষ্টা করেও কোনভাবে এই ৩টি শেষ করতে পারিনি। যে গল্পটি শেষ না হওয়া সত্বেও বইতে অন্তর্ভুক্ত করা যেত সেটার নাম ছিল 'F*ck the বিপ্লব'। নাম 'বালের বিপ্লব' ও হতে পারত কিন্তু বাল শব্দটিকে যথেষ্ট রুঢ় মনে হচ্ছিল না।
এই গল্পটি নামের মতনই অত্যন্ত কড়া এবং একটু অ্যানালিটিকাল। ২০১৫ সালে আমি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংশ্লিষ্ট যেসব তথ্য উপাত্ত যোগাড় করেছিলাম এবং 'নাগরদোলায় উত্থান-পতন' শিরোনামে' যে সিরিজ লেখাটি তৈরি করেছিলাম, তার সূত্র ধরে এই গল্পের শুরু। পেশাগতভাবে একজন risk analyst হবার কারণে আমার চেতন, অবচেতন দুই মনই ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ও এর কলাকুশলীদের মূল উদ্দেশ্য, সাফল্য, ব্যর্থতার সরূপ তুলে ধরতে চেয়েছিল। এই বাসনার বহিপ্রকাশ 'F*ck the বিপ্লব' গল্পটি। গল্পের মূল চরিত্র ও দুই বন্ধু যাদের বহুবছর পর ভার্সিটির রিইউনিয়নে দেখা হয়। তাদের মতাদর্শ ছাত্র থাকা অবস্থায় ভিন্ন ছিল তাই এত…

মার্কিন সপ্তম নৌবহর বনাম সোভিয়েত ইউনিয়নের ১০ অপারেটিভ ব্যাটল গ্রুপ

Image
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর লে. জেনারেল নিয়াজি বুঝে গিয়েছিলেন পরাজয় কাছে চলে এসেছে। ক্র্যাক প্লাটুন মুহমুহ আত্রমন চালাচ্ছে, এই গতকালই তোপখানা রোডে মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে তারা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। মিত্রবাহিনী ঢাকার অদূরে আস্তানা গেড়েছে, ঢুকে যাবে যে কোন মুহূর্তে। আগের সপ্তাহে মুজিবনগর সরকারের অনুরোধে ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সোভিয়েত সহ অন্যান্য দেশও স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করবে। অবস্থা বাস্তবিক নাজুক। তিনি এই নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে পাকিস্তানে বার্তা পাঠান। কিন্তু সেখান থেকে তার জন্য আসে সুসংবাদ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে বন্ধুরা এসে পড়বে। এই বন্ধুরা হলো মার্কিন সপ্তম নৌবহর ও চীনা সেনাবাহিনী। নিয়াজী এ খবর শুনে শরীর ও মনে কিছুটা বল ফিরে পান। তিনি তার অধীনদের জানান, পাকিস্তান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের শেষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াশে ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘে আমেরিকার স্থায়ী প্রতিনিধি জর্জ বুশ ( সিনিয়ার বুশ ) যুদ্ধ বিরতির ও সৈন্য প্রত্যাহা…

কফিনের শেষ পেরেক

Image
ছয়জন সশস্ত্র যুবক দুইদলে ভাগ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধানমন্ডি দুই নম্বর রোডে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে। সময় সকাল ৯ টা। তারিখ ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৫। পরনে তাদের পরিপাটি পোশাক, পোশাকের নিচে অস্ত্র আর সাথে আছে ব্যাগ, যার ভেতরে নাইলনের দড়ি, ছুরি আর দাবি-দাওয়া সম্বলিত কাগজ। দলের চারজনকে অস্থির দেখালেও দুইজনকে দেখায় খুব ধীর স্থির। তাদের পরিচয় দুই প্রকার; একটিতে রয়েছে বাবা-মা প্রদত্ত নাম, যা এখানে গৌণ, এবং অন্যটিতে রয়েছে, যেটা এখানে মুখ্য, তারা কোন সংস্থার সদস্য।বাবা-মা'র দেয়া নাম অনুযায়ী তারা বাহার, বেলাল, বাচ্চু, সবুজ, হারুন ও মাসুদ। তবে তাদের মুখ্য পরিচয় তারা জাসদের গণবাহিনীর সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য।

নভেম্বরের শেষদিক। বেশ শীত পড়েছে এবার। তবে আজ সকালে সূর্যের তেজ আছে, বেশ উষ্ণ একটা ভাব আছে চারদিকে। ভারতীয় হাই কমিশনের কাছে দুই দলে ভাগ হওয়া ছয়জন যুবকের শরীর আজ মাত্রাঅতিরিক্ত গরম; তারা বিপদজনক এক মিশনে এসেছে আজ। তারা এসেছে ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেনকে কিডন্যাপ করতে। উদ্দেশ্য জিয়াউর রহমান নিয়ন্ত্রিত সরকারকে চাপে ফেলে কর্নেল তাহেরকে মুক্ত করা। দুইদিন আগে, অর্থাৎ ২৪ নভেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্…

ঢাকার নিঃশ্বাস কিংবা সন্ধ্যা

Image
ঢাকা শহরকে আমি ততটুকু চিনি যতটুকু মৌমাছি চেনে ফুলের মধু, ঢাকা আমাকে ততটুকু আবিষ্ট করে রাখে যতটুকু ভক্তি নিয়ে শিয়া যুবকরা আশুরার সময় তাদের গা রক্তাক্ত করে, এজন্য আমার বইয়ের প্রথম গল্প ‘সাদা শার্ট পরা লোকটা’ গল্পটা ঢাকার বর্তমান প্রেক্ষাপটে লেখা। গল্পটা এক অর্থে আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় দুষ্ট; আমি যা লিখতে চেয়েছি, যে মেসেজ দিতে চেয়েছি, যা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি তার জন্য কি সত্যি প্রয়োজন ছিল ঢাকা শহরের পটভুমিতে গল্পটা লেখা? গল্পটা কি আবদ্ধ হয়ে যায়নি শুধু একটি শহরের মধ্যে? উন্মুক্ত কি রাখা যেত না ‘স্থান’ ব্যাপারটা? কিন্তু ঐ যে, ঢাকা আমাকে জড়িয়ে রেখেছে অথবা আমি ঢাকাকে জড়িয়ে রেখিছি নিবিষ্ট ভাবে এবং সেজন্য গল্পে ঢাকা শহরটাই উঠে এসেছে।

ঢাকার ইতিহাস নিয়ে আমার আগ্রহ আছে, কিছু পড়াশোনাও আছে। ‘সাদা শার্ট পরা লোকটা’ যদিও একটা নির্দিষ্ট ঘটনার উপর নির্মিত তবুও গল্পটি লেখার সময় নিজেকে আটকাতে পারিনি ইতিহাস টেনে আনার প্ররোচনা থেকে। তাই সাদা শার্ট পরা লোকটার সেই সন্ধ্যায় যেই অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার ফাকে ফাকে উঠে এসেছে সেবাস্তিয়ান মানরিকের ১৬৪১ সালের ভ্রমণ কাহিনি। তার বয়ানে আমি জানিয়ে দিয়েছি সেই ঢাকায় সেইসময় বসবাসরত…

নাইন ইলেভেনের অন্যদিক

Image
নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার দিনে ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি বিমান ( Delta Air Lines Flight 15) ২১৮ জন যাত্রী নিয়ে জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আটলান্টায় যাচ্ছিল। বিমানটির ক্যাপ্টেন মাইকেল সুয়ইনে হঠাৎ আটলান্টা থেকে বার্তা পেলেন যে ইউ এস ফেডারেল এভিয়েসন যুক্তরাষ্ট্রের সব আকাশপথ অনিবার্য কারনে বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে কোন বাণিজ্যিক বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে না। বার্তা পেয়ে ফ্লাইট ফিফটিনের পাইলট ও ক্রুরা অনুমান করে নিয়েছিলেন যে মারাত্মক কিছু একটা ঘটেছে কোথায় তাই তারা ঠিক করলেন যে দ্রুত নিকটতম বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। ক্যাপ্টেন মাইকেল সুয়ইনে হিসাব করে দেখলেন যে সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হবে কানাডার গান্ডার (Gander)। সেখানে অবতরণের জন্য কানাডিয়ান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকদের কাছে অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অনুমতি পেয়ে যান।

বিমানটি গান্ডার বিমানবন্দরে অবতরণ করার আগ মুহুর্তে আটলান্টা থেকে আরো একটি বার্তা পান পাইলট। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।  কানাডার নিউ ফাউন্ডল্যান্ড প্রভিন্সের গান্ডার বিমানবন্দরে ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ফিফটিন স্থানীয় সময় দুপুর …

শেখ কামালের তথাকথিত ব্যাংক ডাকাতি

Image
প্রধানমন্ত্রীর ছেলের টাকার জন্য ব্যাংক ডাকাতির প্রয়োজন হয় না এবং ব্যাংক ডাকাতি করবার অভিপ্রায় থাকলে কেউ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হানা দেয় না কিন্তু গুজব হিসেবে এটা বেশ মুখরোচক যে বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করেছেন। আর  যুদ্ধ পরবর্তী দেশে নানা অনিয়ম, আনাচার, অন্যায়ের পিঠে চড়ে যখন এমন গুজব ছড়ায় তখন এর মাত্রা বেগ পায় বিদ্যুতের।


বাংলাদেশের প্রথম বিরোধীদল জাসদ আর বাংলাদেশের প্রথম গেরিলা দল সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি। স্বাধীনতার কিছুদিন পর থেকেই এরা সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, দুই দলের কাছেই ছিল অস্ত্র, দুই দলের মধ্যে ছিল মুজিব ঘৃণার বীজ। হত্যা, ডাকাতি আর অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিল সর্বহারা পার্টি আর জাসদের আস্ত্রধারীরা সন্ধ্যার পর ঢাকার অলিগলিতে খুন, রাহাজানি, অপহরণের মাধ্যমে সরকারকে অচল করার প্রয়াস চালাচ্ছিল। জাসদ আবার 'গণকণ্ঠ' নামে তাদের মালিকানায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরুদ্ধচারন করতো। এখন অবশ্য তা বুঝবার উপায় নেই যে সেইসময় জাসদ ছিল আওয়ামী লীগের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আওয়ামী ল…