Posts

Featured Post

প্রাথমিক কারন খুব সরল

বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করার প্রাথমিক কারন খুব সরল - তিনি পাকিস্তানকে দুইভাগ করেছেন। ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট একটা দেশকে দুইভাগ করাতে পাকিস্তান প্রেমিকদের কাছে তিনিতো ঘৃণার পাত্রই হবেন। ধারনা করা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান সৌদি আরবের সাথে মিলে ইসলামের ঝান্ডা উড়াবে। কিন্তু ১৯৫২ সালেই স্পষ্ট হয়ে যায় এ ঝান্ডা মুখ থুবড়ে পরতে যাচ্ছে; কালের আবর্তনে পরিস্কার হয়েছে পাকিস্তান ইসলামের ঝান্ডা তো উড়াতে পারেইনি বরং কলঙ্ক রুপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের কুটিলতা এবং পাকিস্তানি আর্মির বর্বরতা এসব পাকিস্তান প্রেমিকরা অস্বীকার করতে পারে না তাই তাদের অস্বস্তি হয় এই বিচ্ছেদে, এই বিভক্তিতে। এই পাকিস্তান প্রেমিকদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম আর পাকিস্তান এক নয়, তাদের মাথায় ঢোকে না যে ইসলাম ও সৌদি আরবও এক নয়; এদের মস্তিস্কে ঢোকানো হয়েছে যে এই তিনের মিলনেই ইসলামী জোস, ঈমানি জোস তাই পাকিস্তানের যে কোন শোচনীয় পরাজয়কে তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়কেও তারা ইসলামের পরাজয় হিসেবে দেখে আর যেহেতু এইসব পাকিস্তানি প্রেমিকেরা জেনেটিক ভাবেই গোড়া, তারা বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা করে …

It was a fake promise

Image
A zoology student named Alexander Ulyanov hated his ruler Tsar Alexander III and like other haters, tried to change the society by killing the Tsar. It was 1887. He was naive so he failed. The police arrested him and his companions. He was, as anticipated, hanged to death. The man's younger brother Ilyich Ulyanov became a revolutionary in later years and intrigued the middle class to revolt against the Tsar in times when the world was at World War I. He showed dreams of a country that is meant for common people and took chances of the leadership vacuum in the country. He successfully led a bloody civil war and became the common men’s ruler in November 1917. In other words, he established first ever communist regime of the world in disguises of dictatorship. He took power claiming to be carrying the ‘will of the people’, whatever that means. People of his land paid heavily in following years due to his false hopes of shitty communism and bloody way to running the country. He reveng…

শাহাবুদ্দিন আহমেদ - একজন বিদ্রোহী শিল্পী

Image
১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সময়কার কথা। এক আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে গেছে তার ভাইয়ের সাথে। ছেলের নাম-ডাক আছে কিছু, স্কুলে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ছবি এঁকে। দোতলায় সিঁড়িতে বসা নেতাগোছের এক ভদ্রলোক। মুখভর্তি তার দাড়ি। ভদ্রলোক তাকে বলেন - আমরা আন্দোলনের নতুন ধারায় যাচ্ছি, এরা বুঝতে পারছে না স্লোগানের মর্ম, তুমি তো শিল্পী, তুমি বুঝবে - ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’! আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলের চেতনার ভিতকে প্রবল ভাবে নাড়িয়ে দেয় এ স্লোগান, সে অনুরোধ করে - আরেকটা বলেন। এবার ভদ্রলোক অন্তরের সকল আবেগ দিয়ে বলেন - 'জয় বাংলা'। এই স্লোগান শুনে আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলের ভেতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি জেগে উঠে। সে মুহূর্তেই সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনের সাথে। বলে - আমাকে কী করতে হবে বলুন। সেই শুরু হলো তার স্লোগানের সঙ্গে মিলিয়ে ছবি রাজনৈতিক আঁকা। এই ছেলে পরে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টায়, তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের সামনে পাকিস্তানের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়।

মুখভর্তি দাড়িওয়ালা লোকটি সিরাজুল আলম খান আর আর্টকলেজ পড়ুয়া ছেলেটি শিল্পী শাহাবুদ্দ…

স্নেহার গালের টোল বনাম আমার শপিং লিস্ট

Image
অনেকদিন পর ড্রয়ার পরিষ্কার করতে যেয়ে হঠাৎ ৫০০ টাকার নোট পেয়ে গেলে যে আদিম মধ্যবিত্ত সুখ পাওয়া যায় এবং বইমেলার প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকার সুগন্ধির সাথে মেলে এমন কোন গন্ধ হঠাৎ নাকে বাড়ি দিলে যেমন করে বুকটা মোচড় দেয়, স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে স্নেহাকে এবং তার গালের টোলটাকে আবিষ্কার করে আমার তেমন আদিম সুখও হলো আবার বুকটা মোচড়ও  দিয়ে উঠলো।

না, আমাদের কোন মিলিত অতীত নাই, আমি কোনদিন তার ঘাড়ে চুমু খাই নাই, আমার হাত কখনো তার হাতের উপর অবস্থান করে নাই, কোনদিন তাকে হলুদ খামে নীল চিঠি পাঠাই নাই, কিন্তু তবুও তাকে ও তার গালের টোল দেখে আমার প্রচন্ড সুখ হল। চিটাগাং পাবলিক স্কুলের সেই দিনগুলোর স্মৃতি ড্রয়ার থেকে পলকে উঠে আসলো আমার শপিং ট্রলি আর শপিং লিস্টের বাস্তবতায়।

স্নেহার গালের টোলের প্রেমে পড়েছিলাম ক্লাস ফাইভে থাকার সময়। পড়াশুনা ভাল লাগতোনা, কোন বন্ধু ছিলনা, খেলাধুলা পারতাম না, বইখাতা আকর্ষণ করতো না, স্কুলে যেতাম শুধু স্নেহার গালের টোল দেখবার জন্য। খুব করে লুকাতে চাইতাম যে আমি তার গালের টোল দেখি কিন্তু পারতাম না। এর মধ্যে কোন যৌন উদ্দীপক ব্যাপার ছিল না, এর মধ্যে কোন…

আব্রাহাম লিংকন, গণতন্ত্র ও অন্ধের হাতী দেখা

Image
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে পেনসিলভেনিয়ার গেটিসবার্গে একটি যুদ্ধক্ষেত্রের উপর দাঁড়িয়ে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ, দাস প্রথা ও মানুষের সমঅধিকার নিয়ে বক্তব্য দেবার সময় গণতান্ত্রিক সরকারের একটি ছোট সংজ্ঞা দেন যা শুনে উপস্থিত সবাই অভিভূত হয়ে পড়েছিল।

তার দেয়া ছোট্ট সংজ্ঞাটি কালোত্তীর্ণ কারণ ১৮৬৩ থেকে আজ অব্দি গণতান্ত্রিক সরকার সংক্রান্ত সব আলাপেই এটি উঠে আসে অনিবার্য ভাবে।

গণতন্ত্র একটি জটিল বিষয় এবং কুটিল পদ্ধতি যাকে ধারন করতে ব্যর্থ হয়েছে বহু জাতি ও বহু তাত্ত্বিক। কিন্তু আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন একটি বাক্যে দারুণভাবে একে ব্যাখ্যা করেন সেই দিন। সন্দেহ নেই লিংকন ছিলেন অত্যন্ত ভাল বক্তা, একজন বোদ্ধা এবং একজন যোদ্ধা কিন্তু গণতন্ত্র নিয়ে তার বক্তব্যটি খুব সম্ভবত স্পন্টেনিয়াস ছিল।

গেটিসবার্গের যুদ্ধে মারা গিয়েছিল ৮ হাজারের মতো সৈনিক। যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অংশেই নিহতদের কবর দেয়া হয়েছিল। সেই কবরস্থানে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বানানো স্মৃতিসৌধের পাশে দাঁড়িয়ে লিংকন কথাগুলো বলেন - গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার,‌ জনগণের জন্য সরকার।

তিনটি অংশের প্রথমটি…

সিদ্দিকের দুঃসময় ও স্বৈরাচার পতনের প্রয়োজনীয়তা

Image
সিদ্দিক বন্ধুর বাসায় মদ খায় ও ভিসিআরে কামুক রেখার নাচ দেখে, সে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বান্ধবীর শরীর ছুঁতে পারবে বলে বেবিটেক্সিতে ওঠে, সে ধানমন্ডির অভিজাত লনপার্টিতে দাঁড়িয়ে চোখ বড়বড় করে স্লিভলেস ব্লাউজ পরা মহিলা দেখে চোখ জুড়ায়, সে অফিসের বড় সাহেবের স্ত্রীর ইঙ্গিতে পা বাড়ায় নিষিদ্ধ সম্পর্কে। সিদ্দিক রাজনীতিতে জড়িত হতে চায় না কিন্তু তার বান্ধবীকে ইমপ্রেস করার জন্য রাজনৈতিক সভায় যায়। রাজনীতির ভেতরের অন্তঃসারশূন্যতা তাকে ব্যথিত করে না কারণ প্রেসিডেন্ট এরশাদের পতন হলেও তার কিছু যায় আসে না, পতন না হলেও না। গল্পের নায়কের চরিত্র, আচরণ যেমন 'নায়ক' সুলভ হওয়া প্রয়োজন সিদ্দিকেরটা তেমন নয়। বরং এক সময় মনে হতে থাকে সে চারিত্রিকভাবে কিঞ্চিত লম্পট। গল্পের নাম অনেক বড় এবং নামের একাংশে সিদ্দিকের উপস্থিতি প্রবল। গল্পের নামের অন্যঅংশে সিদ্দিক ঢুকতে চায় না, শেষ পর্যন্ত ঢুকেও না কিন্তু স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়েই সিদ্দিকের দুঃসময়ের সমাপ্তি হয়। আমি মানতে নারাজ সিদ্দিক লম্পট। সে চাকরিতে ফাঁকি দেয় না, মনে প্রানে মালিকের উন্নতি কামনা করে এবং বাড়তি ইনকামের জন্য প্রাইভেট পড়ায় যদিও …

'F*ck the বিপ্লব' এখনো গল্প হয়ে উঠতে পারেনি

Image
...খুব ইচ্ছে ছিল আমার প্রকাশিত প্রথম বইটিতে ১২টি গল্প থাকবে। কিন্তু প্রকাশকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মাঝে ১১টি গল্প তৈরি করতে পেরেছিলাম আর ৩টি নির্মাণাধীন ছিল। চেষ্টা করেও কোনভাবে এই ৩টি শেষ করতে পারিনি। যে গল্পটি শেষ না হওয়া সত্বেও বইতে অন্তর্ভুক্ত করা যেত সেটার নাম ছিল 'F*ck the বিপ্লব'। নাম 'বালের বিপ্লব' ও হতে পারত কিন্তু বাল শব্দটিকে যথেষ্ট রুঢ় মনে হচ্ছিল না।
এই গল্পটি নামের মতনই অত্যন্ত কড়া এবং একটু অ্যানালিটিকাল। ২০১৫ সালে আমি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংশ্লিষ্ট যেসব তথ্য উপাত্ত যোগাড় করেছিলাম এবং 'নাগরদোলায় উত্থান-পতন' শিরোনামে' যে সিরিজ লেখাটি তৈরি করেছিলাম, তার সূত্র ধরে এই গল্পের শুরু। পেশাগতভাবে একজন risk analyst হবার কারণে আমার চেতন, অবচেতন দুই মনই ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ও এর কলাকুশলীদের মূল উদ্দেশ্য, সাফল্য, ব্যর্থতার সরূপ তুলে ধরতে চেয়েছিল। এই বাসনার বহিপ্রকাশ 'F*ck the বিপ্লব' গল্পটি। গল্পের মূল চরিত্র ও দুই বন্ধু যাদের বহুবছর পর ভার্সিটির রিইউনিয়নে দেখা হয়। তাদের মতাদর্শ ছাত্র থাকা অবস্থায় ভিন্ন ছিল তাই এত…

মার্কিন সপ্তম নৌবহর বনাম সোভিয়েত ইউনিয়নের ১০ অপারেটিভ ব্যাটল গ্রুপ

Image
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর লে. জেনারেল নিয়াজি বুঝে গিয়েছিলেন পরাজয় কাছে চলে এসেছে। ক্র্যাক প্লাটুন মুহমুহ আত্রমন চালাচ্ছে, এই গতকালই তোপখানা রোডে মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে তারা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। মিত্রবাহিনী ঢাকার অদূরে আস্তানা গেড়েছে, ঢুকে যাবে যে কোন মুহূর্তে। আগের সপ্তাহে মুজিবনগর সরকারের অনুরোধে ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সোভিয়েত সহ অন্যান্য দেশও স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করবে। অবস্থা বাস্তবিক নাজুক। তিনি এই নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে পাকিস্তানে বার্তা পাঠান। কিন্তু সেখান থেকে তার জন্য আসে সুসংবাদ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে বন্ধুরা এসে পড়বে। এই বন্ধুরা হলো মার্কিন সপ্তম নৌবহর ও চীনা সেনাবাহিনী। নিয়াজী এ খবর শুনে শরীর ও মনে কিছুটা বল ফিরে পান। তিনি তার অধীনদের জানান, পাকিস্তান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের শেষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াশে ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘে আমেরিকার স্থায়ী প্রতিনিধি জর্জ বুশ ( সিনিয়ার বুশ ) যুদ্ধ বিরতির ও সৈন্য প্রত্যাহা…