Posts

Showing posts from November, 2016

নভেম্বরের অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান,অ-অভ্যুত্থান ও অপ-অভ্যুত্থান

Image
পঁচাত্তরের নভেম্বরের উপর লেখাটি চারটি পর্বে প্রকাশ করেছিলাম। আগ্রহী পাঠকদের সুবিধার্থে প্রতিটি পর্বের লিঙ্ক ও সংক্ষিপ্তসার এখানে দিলাম।

প্রথম পর্ব (১-১৫)- লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - সে রাতে আর্মি চীফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা একটা ডিনারের আমন্ত্রনে গিয়েছিলেন। বাসায় আসতে দেরী হয়ে যায় তাদের; এসে দেখেন তাদের দুই ছেলে পিনো ও কোকো শুয়ে পড়েছে। জেনারেল জিয়া শোবার ঘরে চলে যান; খালেদা বেয়ারাদের পরবর্তী দিনের নাস্তার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে ঘরে আসেন। দুজনেরই ঘুম আসে দ্রুত কিন্তু স্থায়ী হয় না বেশিক্ষণ; কর্কশ কলিং বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায়।মধ্যরাতের আগন্তক শুভ হতে পারে না ভাবেন তারা। জিয়াউর রহমান খালেদাকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে বাইরে আসেন। ইতিমধ্যে কাজের লোক দরজা খুলে দিয়েছে। জিয়া ড্রইং রুমে এসে দেখেন ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে আছে। জিয়া তাকে শান্তভাবে প্রশ্ন করেন “কি ব্যাপার হাফিজ?” হাফিজুল্লাহ সামরিক কায়দায় স্যালুট করে বলে “স্যার আপনি চীফ অব জেনারেল স্টাফ বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নির্দেশে হাউজ এ্যারেস্ট”।

দ্বিতীয় পর্ব (১৬-৩৭) - লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - ৪ নভেম্বর সকালে ক…

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ বেতারকেন্দ্রের জৌলুস, ভূপাতিত দ্বিতীয় বিপ্লব এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে একটি দাফন (চতুর্থ পর্ব)

Image
(ক্রমশ...)

৩৯
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোন অভ্যূত্থানে রেডিও ষ্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রেডিও বাংলাদেশের বিল্ডিংয়ে মঞ্চস্থ হয় ক্ষমতা কাড়াকাড়ির তাৎপর্যময় একটি পরিবেশনা যার মুল ভূমিকায় থাকেন কর্নেল আবু তাহের ও জেনারেল জিয়া আর সহভূমিকায় খন্দকার মোশতাক ও বিচারপতি সায়েম। ক্যান্টনমেন্টের উপর দখল হারিয়ে ফেললেও শাহবাগে অবস্থিত রেডিও ষ্টেশনের উপর তাহেরের পূর্ণ দখল রয়েছে কারন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্য ও গণবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র হাতে তখনো ষ্টেশনের ভেতরে বাইরে বিচরন করছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুল হক ও কর্নেল মইনুল হোসেনের সতর্কবানী অগাহ্য করে জেনারেল জিয়া আসেন রেডিও ষ্টেশনে; রেডিওতে ভাষন দেয়া তাকে সবসময়ই প্রবলভাবে টানে। তিনি পৌছালে বিপ্লবী সৈনিকরা তাকে ঘিরে ধরে। একে একে দাবিগুলো পড়ে শুনানো হয় তাকে। জিয়াকে দেখে  মনে হয় না তিনি বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে গেছেন; একটা একটা দাবী শোনেন আর  মাথা নেড়ে নেড়ে ছোট ছোট মন্তব্য করেন।বেতনের কথা উঠলে বলেন “বেতনতো বাড়াতেই হবে তবে বেশি বাড়ালে দেশের অন্য লোক খাবে কি?” ব্যাটম্যান প্রথার কথা উঠলে বলেন "এটা বাতিল করা হবে।&qu…

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ নাগরদোলায় উত্থান, পতন ও অবস্থান (তৃতীয় পর্ব)

Image
(ক্রমশ...)

২৪
...এলো ‘জিরো আওয়ার’, ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫। শুরু হলো কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লব; খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পাল্টা জবাব। সুবেদার মাহবুব কোন বাধা ছাড়াই সেন্ট্রাল অর্ডিন্যান্স ডিপো দখল নেয়;  খুলে দেয় আস্ত্রাগার; বিদ্রোহী সৈনিকরা তুলে নেয় অস্ত্র। এরপর সে মুল রাস্তায় এসে আকাশে গুলি ছোড়ে,এটাই বিপ্লব শুরুর গ্রীন সিগন্যাল। বাকি দলগুলো বুঝে নেয় শুরু হয়ে গেছে সিপাহী বিদ্রোহ। একটা দল দ্রুত আর্মি হেডকোয়ার্টার দখল নেয়। অন্য একটা দল কোয়ার্টার থেকে, মেস থেকে অফিসারদের অস্ত্রের মুখে তুলে আনতে শুরু করে; তারা অফিসারদের বলে “আজ  থেকে সেপাই আর অফিসারের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, আমরা সব সমান।” বিস্মিত অফিসাররা নির্বাক হয়ে থাকাই শ্রেয় মনে করেন। শত শত সৈনিক রাস্তায় নেমে আসে। তাদের মুখে শ্লোগান ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই’, ‘হাবিলদারের উপর অফিসার নাই’।

সারা ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে তখন দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ট্রাকের শা শা ও ট্যাঙ্কের ঘড়ঘড়ানির শব্দ।

২৫
খালেদ মোশাররফ তখন বঙ্গভবনে মিটিং করছেন। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু কে  হবেন চিফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর। খালেদ মোশাররফ চান আর্মি চীফেরই চিফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর…

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ নাগরদোলার মরিচা, নাগরদোলার জৌলুস (দ্বিতীয় পর্ব)

Image
(ক্রমশ)   ১৫
…৪ নভেম্বর সকালে কর্নেল শাফায়াত জামিল সবার আগে ফোর বেঙ্গলের ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে এসে পৌছান। তাকে চিন্তিত দেখা যায়। একবার তার চেয়ারে বসেন তো একবার বারান্দায় দাড়ান। শাফায়াত জামিল স্বস্তি পাচ্ছেন না যদিও ফারুক রশিদ ডালিম গং গতকাল দেশ ছেড়ে চলে গেছে,ক্যান্টনমেন্টের বাইরের সব ট্যাঙ্ক নিরস্ত্র করা হয়েছে এবং জিয়াউর রহমান পদত্যাগ করেছেন। তার অস্বস্তির মুল কারন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে এখনো আর্মি চীফ করা হয়নি। শাফায়াত আসা করেছিলেন কাল রাতেই বঙ্গভবন থেকে ঘোষনা আসবে কিন্তু তা আসেনি। অনিশ্চয়তা ভাল জিনিস নয়; সাধারন অফিসার ও সৈনিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে কারন তাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তারা শুধু জানে জেনারেল জিয়াউর রহমান গৃহবন্দী। কেন জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হলো তা জানানো প্রয়োজন। যতক্ষণ না জানানো হবে, ততক্ষণ অনিশ্চয়তা বাড়বে, সন্দেহের ডালপালা বাড়বে, পক্ষ প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হবে। আর যতক্ষণ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে নতুন চীফ হিসেবে ঘোষণা না করা হচ্ছে ততক্ষণ সাধারন অফিসার ও সৈনিকদের কিছু জানানোও যাচ্ছে না। অস্বস্তির অন্য কারন হলো খালেদ মোশাররফের খোন্দকার মোশতাকের প্রতি অতিরিক…