Skip to main content

Posts

টুথপিক

গোপাল ভাড় বলেছিল এক রাজাকে "হুজুর আমি আপনাকে পায়খানার মত ভালবাসি।" আর অন্য দেশের এক রাজকন্যা বলেছিল প্রতাপশালী রাজাকে "বাবা আমি তোমাকে লবণের মত ভালবাসি।" দুজনরই শাস্তি হয়েছিল বনবাস। গোপাল ভাড়কে বনবাসে দিয়ে রাজা গেলেন নৌকা ভ্রমণে। এলো তার পায়খানা। নৌকা তীরে ভিড়তে দেরি আছে। রাজা চেপে বসে আছেন। না পেরে উজিরকে একসময় বললেন "ভিড়াও তীরে নৈাকা।" উজির বলল "হুজুর এখানে কুমিরের উপদ্রপ।" আরও কিছুদুর যাওয়ার পর তীরে ভিড়ল নৈাকা। ঘন বনের মধ্যে ছুটে গেলেন রাজা, করলেন পায়খানা। স্বস্তি আসল দেহ মনে। অনুভব করলেন গোপাল ভাড়ের স্তবকের অন্তর্নিহিত মজেযা। গোপাল ভাড়কে ফিরিয়ে আনলেন রাজধানীতে। আর বনবাসে থাকা সেই রাজকন্যাও তার বাবাকে সুযোগ পেয়ে লবণ ছাড়া তরকারি খাইয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল লবণের প্রয়োজনীয়তা। কোন অনুষ্ঠানে ভোজের পর দাঁতে যখন মাংশ আটকে যায় আর ক্লান্তিহীন ভাবে অস্বস্তি উৎপন্ন করতে থাকে তখন টুথপিক পাবার আকাঙ্খা এতই তিব্র হয় যে তা পায়খানা ও লবণের সমকক্ষতা অর্জন করে। "আপনি কেমন আছেন?" এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয় আমার নাইনটি নাইন পারসেন্টই ওকে কিন্ত দাতেঁ লেগে থাক...

অস্কার শিন্ডলার

১৯৩৯ সালে জার্মান আগ্রসনের সময় অস্কার শিন্ডলার পোল্যান্ডের ক্রাকোও শহরে আসেন। জাতিগত বিচারে তিনি ছিলেন এথনিক জার্মান। তখন পর্যন্ত শিন্ডলার একজন চতুর ও সুবিধাবাদী কিন্তু মধ্যম মানের ব্যবসায়ী। তিনি যুদ্ধকে তার সফলতার চাবি হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছিলেন। ব্যবসার মূলধন জোগাড় করার জন্য শিন্ডলার শহরের বিত্তশালী ইহুদি পরিবারগুলোকে লুকাতে বা পালাতে সাহায্য করতে শুরু করেন। ক্রাকোও শহরে তখন নাৎসিরা বেশ কয়টি  বন্দীশালা তৈরি করেছিলো যেখানে রাখা হতো ইহুদিদের। এসব বন্দীশালাকে বলা হতো ঘেট্রো। সেখানে কোনো খাবার ছিল না, পানি ছিল না, ছিল শুধু হিটলারের বাহিনীর নির্মম অত্যাচার।এখানে অল্পদিনেই বেশির ভাগ মানুষই মারা যেত। যারা বেচে থাকত তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে গুলি করে হত্যা করা হতো। নাৎসি বাহিনীর হাতে বৃদ্ধ, শিশু, নারী, কারোর নিস্তার ছিল না। তাই অস্কার শিন্ডলারকে বিশ্বাস করা ছাড়া ইহুদি পরিবারগুলোর আর কোন অল্টারনেট ছিল না। ইহুদি পরিবারগুলোকে লুকাতে সাহায্য করে করে এক সময় তার মূলধন জোগাড় হয়ে গেলো। তা দিয়ে শিন্ডলার ঘেট্রোর কাছে অবস্থিত দুটি কোম্পানি কিনে নেন পালিয়ে যাওয়া ইহুদিদের থেকেই। পাকা ব্যবসায়ীর ম...

ক্যাপ্টেন নিউজিল্যান্ড

ক্যাপ্টেন চার্লস উফাম একমাত্র ব্যক্তি যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘দ্য ভিক্টোরিয়া ক্রস’ পুরস্কারে দুইবার ভূষিত করা হয়েছিল। এই পুরস্কার অসীম সাহসিকতার জন্য ব্রিটিশ ও কমনওয়েলথ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হতো। ১৯৪১ সালের ৩০ মে জার্মান আগ্রাসনের সময় সাহসিকতা প্রদর্শন করে তিনি তার প্রথম ভিক্টোরিয়া ক্রস অর্জন করেন। তার অবস্থান ছিল গ্রীসের ক্রিতে দ্বীপে। সুসজ্জিত জার্মান বাহিনী এগিয়ে আসছে। ক্যাপ্টেন চার্লস উফামের দল অস্ত্রশস্ত্র ও জনবলে দুর্বল। এই অবস্থায় সুসজ্জিত জার্মান শিবি রে তিনি তার প্লাটুন নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালান। এই আক্রমণের সময় তিনি একা দুটি মেশিনগান নেট ধ্বংস করেন এবং গ্রেনেড দিয়ে একটি এন্টি এয়ারক্রাফট গান ধ্বংস করেন। এরপর তার মেশিনগান দিয়ে জার্মানির ২২জন সৈন্যকে হত্যা করেন। ফেরত আসার সময় তার প্লাটুনেরএকজন আহত সৈনিককে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন । ক্যাপ্টেন চার্লস উফাম দ্বিতীয় ভিক্টোরিয়া ক্রসটি তিনি পান পরের বছর ২৫ জুলাই, প্রথম এল আলামেইন যুদ্ধের সময়। রুইসাত রেইজ প্রতিরক্ষার সময় তিনি গোলাগুলির মধ্যে সামনে এগিয়ে যান জার্মান সৈন্যভর্তি একটি ট্রাকে গ্রেনেড ছুড়ে মারার জ...

বি পি এল বিনোদন

বি পি এল এর প্রথম আসরের গল্প। খেলা হচ্ছিল বরিশাল বার্নার্স বনাম দুরন্ত রাজশাহী।  বরিশাল  বার্নারস টানা দ্বিতীয় জয়ের পথে। শেহজাদ ভালো ব্যাট করছেন, গেইল ঝড় তুলছেন। এ অবস্থায়  ক্যামেরাতে ধরা পড়ল তিনজন ললনা  বরিশাল বার্নার্সের  পতাকা হাতে নিয়ে বেশ উদ্বেলিত। মাইক হাতে নিয়ে কমেন্টেটর  Atul Wassan এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে।  শুরু হল প্রশ্ন উত্তর পর্বঃ Atul Wassan:  "Who is your favorite player in the burners team?" তিনজনের সমস্বরে চিৎকারঃ  Chris Gayle!  Chris Gayle!! Atul Wassan:    Chris Gayle! Why not any of your country players?  তিনজন একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল, শেষে মাঝের জন উত্তর দিলঃ players is players.  Atul Wassan: So your team is going to win two games in a row! You girls are having a pretty good weekend, don't you?  মেয়ে তিনটা এবার বেশ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। ডানদিক থেকে আসলো এপিক উত্তর : Shariar Nafees.

চিটাগাং!

Add caption … সমুদ্রের গর্জন , পাহাড়ের গাম্ভীর্য , নদীর প্রবাহমানতা আর   অরণ্যের মায়াবী নিঝুমতার কারনে ইংরেজরা চিটাগাং এর নাম দিয়েছিলো প্রাচ্যের রানী । বাংলাদেশের আর   কোন শহরের এতো নাম নেই যা চিটাগাং এর আছে ।   চট্টলা , চাটগাঁ ও চট্রগ্রাম ছাড়াও এই শহর পরিচিত চাটিগ্রাম , চর্তুগ্রাম , সোদকাওয়াঙ ,   চিতাগঞ্জ , রোসাং জেটিগাঁ ও দেবগাঁও নামে । শ্রী পূর্ণচন্দ্র দেব বর্মার মতে পর্তুগীজদের দেয়াং পাহাড়ের আড্ডায় জ্বালানো সারিবদ্ধ চাটিসমূহ গভীর সাগর থেকে দেখা যেত । সেই সারি সারি চাটি থেকে চাটি গ্রাম এবং ক্রমে চট্টগ্রাম নামে রুপান্তর হয়েছে । ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে মুগল সম্রাট আওরঙ্গজেব আরাকানদের হটিয়ে এই অঞ্চল দখল করেন এবং এর নাম রাখেন “ ইসলামাবাদ ” । ব্রিটিশরা ১৭৬০ সালে সাম্প্রদায়িক মন মানসিকতায় ইসলামাবাদ নামকে বাতিল করে ইংরেজী নাম চিটাগাং প্রচলিত করে । পরিব্রাজক ইবনে বতুতা চিটাগাং আসেন   ১৩৪৬ সালে । তার লেখায় পাওয়া যায়   “ যে শহরে আমরা প্রবেশ করল...

ঈশা খাঁর প্রতি দুর্বলতা

এগারসিন্দুর দুর্গ ঈশা খাঁর প্রতি আমার দুর্বলতা কৈশোর থেকে। পড়তাম শাহীন স্কুলে। হাউস ছিল ঈশা খাঁ। সে সময় আমার খেলাধুলা বা কালচারাল কোনো প্রতিভাই বিকশিত হয়নি। হাউজের কোনো কর্মসূচিতে আমার কখনো অংশগ্রহণ ছিল না। কিন্তু হাউজের প্রতীক ঈশা খাঁকে বীরের মতো বীর মনে হত। ক্লাস নাইনে রওণক করিম ম্যাডাম পড়াতেন ইতিহাস। একটা অধ্যয় ছিল বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নিয়ে। তখন জানলাম এই প্রতাপশালী তেজস্বী ও সাহসী ঈশা খাঁর বীরত্বের গল্প। জানলাম কিভাবে তিনি মোঘল সেনাপ্রধান শাহবাজ খান ও মানসিংহকে নাকানি-চুবানি দিয়েছেন। সেই সময় আহমেদ ফজল নামে এক ক্ষ্যাপাটে মিউজিশিয়ান ও তার ব্যান্ড নোভা ইতিহাস নিয়ে অনেক গান বেধেছিলো। তার একটা ছিল ঈশা খাঁর বীরত্বকে নিয়ে। নোভা ছাড়া বাংলাদেশী আর কোনো শিল্পী ইতিহাসের এতো ভেতরে কখনো যাননি। এই ফজলই সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে সর্বপ্রথম চিৎকার করে বলেছিলেন রাজাকারের তালিকা চাই। সাল ছিল ১৯৮৯। এর আগে এতো বলিষ্ঠভাবে রাজাকারদের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। সে অন্য গল্প। তো সেই সময় রওণক করিম ম্যাডাম ইতিহাসের পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মাথায়। এখনো গোগ্রাসে গিলছি ইতিহাস।তখন থেকে মোঘল বশ্যতা অগ্রাহ্য করা ঈ...

বিশ্বায়ন নিজ পরিচয়ে

যুগটা বিশ্বায়নের। যুগটা গ্লোবাল ভিলেজের। বাণিজ্যটাই মুল। তবে অন্যের মতো হয়ে যাওয়াটা হতাশার, আতঙ্কের। জাপানের ছেলেটি তো চায় না হতে মার্কিনি। মঙ্গলিয়ান মেয়েটা মানছেনা চীনের আগ্রাসন। আইরিশরা কি কখনো চাইবে ড্যানিশ হতে?  দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরেটা পশ্চিমে, ভেতরটা তো প্রাচ্যে। চেক ছেলেটি কি চাইবে রাশিয়ান হতে? তবে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বাংলাদেশী, স্মার্ট যুবক বলিউডের নায়ক কে অনুকরণ করবে অন্ধের মতোন? কেন বাংলাদেশী মধ্যবয়সী, শিক্ষিত, মহিলা লাল লিপস্টিক আর চাকাও-মাকাও পোশাক পরে বলিউডের নায়িকার ফটোকপি হতে চাইবে? কেন রেডিও-জকিরা অদ্ভুত উচ্চারণকে আধুনিকতার মাপকাঠি মনে করবে? বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের সব প্রান্তে পৌঁছানো যায় অবলীলায়, তবে পৌঁছতে হবে নিজ পরিচয়ে, নিজের সংস্কৃতি নিয়ে।