নভেম্বরের অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান,অ-অভ্যুত্থান ও অপ-অভ্যুত্থান

পঁচাত্তরের নভেম্বরের উপর লেখাটি চারটি পর্বে প্রকাশ করেছিলাম। আগ্রহী পাঠকদের সুবিধার্থে প্রতিটি পর্বের লিঙ্ক ও সংক্ষিপ্তসার এখানে দিলাম।

প্রথম পর্ব (১-১৫)- লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - সে রাতে আর্মি চীফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা একটা ডিনারের আমন্ত্রনে গিয়েছিলেন। বাসায় আসতে দেরী হয়ে যায় তাদের; এসে দেখেন তাদের দুই ছেলে পিনো ও কোকো শুয়ে পড়েছে। জেনারেল জিয়া শোবার ঘরে চলে যান; খালেদা বেয়ারাদের পরবর্তী দিনের নাস্তার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে ঘরে আসেন। দুজনেরই ঘুম আসে দ্রুত কিন্তু স্থায়ী হয় না বেশিক্ষণ; কর্কশ কলিং বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায়।মধ্যরাতের আগন্তক শুভ হতে পারে না ভাবেন তারা। জিয়াউর রহমান খালেদাকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে বাইরে আসেন। ইতিমধ্যে কাজের লোক দরজা খুলে দিয়েছে। জিয়া ড্রইং রুমে এসে দেখেন ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে আছে। জিয়া তাকে শান্তভাবে প্রশ্ন করেন “কি ব্যাপার হাফিজ?” হাফিজুল্লাহ সামরিক কায়দায় স্যালুট করে বলে “স্যার আপনি চীফ অব জেনারেল স্টাফ বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নির্দেশে হাউজ এ্যারেস্ট”।

দ্বিতীয় পর্ব (১৬-৩৭) - লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - ৪ নভেম্বর সকালে কর্নেল শাফায়াত জামিল সবার আগে ফোর বেঙ্গলের ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে এসে পৌছান। তাকে চিন্তিত দেখা যায়। একবার তার চেয়ারে বসেন তো একবার বারান্দায় দাড়ান। শাফায়াত জামিল স্বস্তি পাচ্ছেন না যদিও ফারুক রশিদ ডালিম গং গতকাল দেশ ছেড়ে চলে গেছে,ক্যান্টনমেন্টের বাইরের সব ট্যাঙ্ক নিরস্ত্র করা হয়েছে এবং জিয়াউর রহমান পদত্যাগ করেছেন। তার অস্বস্তির মুল কারন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে এখনো আর্মি চীফ করা হয়নি। শাফায়াত আসা করেছিলেন কাল রাতেই বঙ্গভবন থেকে ঘোষনা আসবে কিন্তু তা আসেনি। অনিশ্চয়তা ভাল জিনিস নয়; সাধারন অফিসার ও সৈনিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে কারন তাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তারা শুধু জানে জেনারেল জিয়াউর রহমান গৃহবন্দী। কেন জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হলো তা জানানো প্রয়োজন। যতক্ষণ না জানানো হবে, ততক্ষণ অনিশ্চয়তা বাড়বে, সন্দেহের ডালপালা বাড়বে, পক্ষ প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হবে। 

তৃতীয় পর্ব (২৪-৩৮) - লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - এলো ‘জিরো আওয়ার’, ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫। শুরু হলো কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লব; খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পাল্টা জবাব। একটা দল দ্রুত আর্মি হেডকোয়ার্টার দখল নেয়। অন্য একটা দল কোয়ার্টার থেকে, মেস থেকে অফিসারদের অস্ত্রের মুখে তুলে আনতে শুরু করে; তারা অফিসারদের বলে “আজ  থেকে সেপাই আর অফিসারের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, আমরা সব সমান।” বিস্মিত অফিসাররা নির্বাক হয়ে থাকাই শ্রেয় মনে করেন। শত শত সৈনিক রাস্তায় নেমে আসে। তাদের মুখে শ্লোগান ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই’, ‘হাবিলদারের উপর অফিসার নাই’।

চতুর্থ পর্ব (৩৯-৫২) - লিঙ্ক
সংক্ষিপ্তসার - বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোন অভ্যূত্থানে রেডিও ষ্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রেডিও বাংলাদেশের বিল্ডিংয়ে মঞ্চস্থ হয় ক্ষমতা কাড়াকাড়ির তাৎপর্যময় একটি পরিবেশনা যার মুল ভূমিকায় থাকেন কর্নেল আবু তাহের ও জেনারেল জিয়া আর সহভূমিকায় খন্দকার মোশতাক ও বিচারপতি সায়েম।







Comments

Most read

How strong is Myanmar's military?

Pohela Boishakh – Bangali New Year

বিমান দুর্ঘটনা