ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের অগ্রগতি এবং ঊর্ধ্বগতি

Media advancement
বাংলাদেশের গণমাধ্যমখাতে গত এক দশকে মোটামোটি এক  বিপ্লব ঘটে গেছে। অনেকগুলো নতুন স্যাটেলাইট টিভি ও এফএম চ্যানেলের আবির্ভাব হয়েছে। সেই সাথে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির সংখ্যাও তীব্রভাবে বেড়ে গেছে। ব্লগিং শুরু হয়েছে, জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

তথ্যের মুক্ত প্রবাহ, সামাজিক প্রচার মাধ্যমের বিস্তৃতি, টিভি চ্যানেলের দর্শক জরিপ এবং রেডিও চ্যানেলের কল্যাণে সাধারণ মানুষ এখন তাদের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভাবনার কথা জানাতে পারে। শক্তিশালী ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের কারণে দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া প্রধান ঘটনাগুলো সম্পর্কে মানুষ আর অজ্ঞ থাকছে না।

তাই বলা যায় এই সদ্য প্রসূত ‘গণমাধ্যম বিপ্লব’ দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচকই বটে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড- এ দুটি রাষ্ট্রায়ত্ব চ্যানেলের পাশাপাশি বেসরকারি ২৭টি চ্যানেল তাদের সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে সর্বশেষ সংবাদ প্রচারের কারণে দেশ-বিদেশের নানা খবর চলে এসেছে মানুষের হাতের নাগালে। রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তথা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিয়ে নিয়মিত টকশো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের পক্ষে বিপক্ষে মতামত জেনে সাধারণ দর্শক ভালোমন্দের একটা সম্যক ধারণা লাভ করে।

গণমাধ্যমের বিস্তৃতি ও প্রসারের কল্যাণে এখন ঘরে বসেই বিজ্ঞান, বিশ্ব, চিকিৎসা, রান্না, নাচ, গান, আঁকাআঁকি শেখা যায়। এছাড়া সরাসরি সম্প্রচারিত খেলা, চলচ্চিত্র, নাটক, গান কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন বিনোদনের সবথেকে বড় অনুষদ যা এক দশক আগেও ছিল শুধুই কল্পনা। আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রেও এসব অনুষ্ঠানের ভূমিকা অতুলনীয়।

নিয়মিত চ্যানেলের বাইরে শুধুমাত্র সংবাদ প্রচারের জন্য বাংলাদেশে রয়েছে ৩টি খবর প্রচার চ্যানেল- ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এটিএন নিউজ ও সময় টিভি। একঝাঁক দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক আর কলাকুশলীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই চ্যানেলগুলো সংবাদ প্রচারে নিরপেক্ষতায় বদ্ধপরিকর। বেসরকারি তথা সমগ্র ব্যাবসাখাতই ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার দ্বারা উপকৃত হয়েছে কেননা টিভি, রেডিও আর সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনই পণ্যকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার সবথেকে কার্যকর মাধ্যম।

বাংলাদেশে গত পাঁচ / ছয় বছরে ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান অনুষদ। তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার এখন উন্মুক্ত। মনন বিকাশেরও বড় এক মাধ্যম এটি। ফোরাম, ফেসবুক কিংবা টুইটার এর মত সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকারী সাইটের সাহায্যে একদিকে যেমন নিজের মুক্তভাবনার বিকাশ ঘটানো এখন সহজ, তেমনি প্রিয়জন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সাথেও যোগাযোগ রাখা যায় অনায়াসে। এছাড়া এখন বাংলাদেশের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের প্রচারের জন্য বেছে নিচ্ছে ইন্টারনেটকে।

সবমিলিয়ে বলা যায় বাংলাদেশের মত উদীয়মান, উন্নতিশীল দেশের জন্য মুক্ত ও স্বচ্ছ গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। এখন পর্যন্ত তা অগ্রগতি এবং ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।



References:

1. Will the media create a global village?

2. The electronic media boom in Bangladesh

3. Role of Mass Media in Enhancing Education in Bangladesh


Comments

Popular posts from this blog

How strong is Myanmar's military?

বিমান দুর্ঘটনা

পঁচাত্তরের নভেম্বরঃ নাগরদোলায় অনৈক্য,বিভক্তি ও সংঘাত (প্রথম পর্ব)